এশিয়ায় এখনো নিম্নমুখী প্রবণতায় স্বর্ণের চাহিদা

বিশ্বে স্বর্ণের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ ভারত। অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো দেশটিতে নিম্নমুখী প্রবণতায় স্বর্ণের চাহিদা।

বিশ্বে স্বর্ণের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ ভারত। অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো দেশটিতে নিম্নমুখী প্রবণতায় স্বর্ণের চাহিদা। অন্যদিকে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে বাড়তি দাম মূল্যবান ধাতুটির আসন্ন মৌসুমি চাহিদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

ভারতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ৭৫ হাজার ৪৫৯ রুপিতে (৮৮৭ ডলার ২৮ সেন্টে) নেমে আসে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৭৯ হাজার ১২০ রুপি।

তবে চেন্নাইয়ের এক গহনা ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ক্রেতারা দাম আরো কমার অপেক্ষায় আছেন।’

চলতি সপ্তাহে ভারতীয় ডিলাররা সরকারিভাবে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ মূল্যের ওপর প্রতি আউন্সে ৮ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। গত সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৯ ডলার পর্যন্ত।

মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি বুলিয়ন ব্যাংকের ডিলার বলেন, ‘‌গহনা ব্যবসায়ীরা এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রুপির বিনিময় হার রেকর্ড নিম্নে নেমে যায়।’

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, স্বর্ণের দাম বেশি থাকায় ভারতের স্থানীয়রা ওজনে হালকা ও তুলনামূলক কম ক্যারেটের গহনা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত দামের কারণে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও স্বর্ণের চাহিদা কমেছে। স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘‌চীনে আন্তর্জাতিক দামের তুলনায় প্রতি আউন্সে প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়েছে।’

হেরেউস মেটালস হংকং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ডিক পুন বলেন, ‘‌চীনে স্বর্ণের উচ্চমূল্য একটি বড় কারণ হলেও জানুয়ারিতে চীনা নববর্ষকে ঘিরে চাহিদা বাড়তে পারে। যদিও তারা খুব বেশি ভারী গহনা কিনবে বলে মনে হচ্ছে না।’

এক ব্যবসায়ী জানান, চলতি সপ্তাহে হংকংয়ের ব্যবসায়ীরা প্রতি আউন্স স্বর্ণে ২ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন। অন্যদিকে জাপানের ব্যবসায়ীরা প্রতি আউন্স স্বর্ণে মূল্য সংযোজন করেছেন ১ ডলার ৫ সেন্ট। এ সময় দেশটিতে ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি ৪ ডলার ৫ সেন্ট।

আরও